আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন
সর্বশেষ আপডেট: ১৭ জুলাই, ২০২৬
ইউক্রেন যুদ্ধের আবহ ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে মার্কিন কংগ্রেসে একটি অত্যন্ত কঠোর ও সংশোধিত নিষেধাজ্ঞা বিল উত্থাপন করেছেন দেশটির সিনেটররা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থনপুষ্ট এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো—মস্কোর তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক (Tariff) আরোপ করা। এর ফলে মূলত রাশিয়ার জ্বালানির সবচেয়ে বড় দুই ক্রেতা দেশ চীন ও ভারত সরাসরি ওয়াশিংটনের বড় অর্থনৈতিক কাঠগড়ায় পড়তে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট (The Independent) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন আইনসভায় এই বিলটি পাস হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন।
প্রয়াত প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মূল উদ্যোগে এই বিলটির খসড়া তৈরি হয়েছিল। তবে পূর্বের কঠোর খসড়াটির তুলনায় সংশোধিত বিলে কিছুটা নমনীয়তা আনা হয়েছে।
শুল্কের সীমা হ্রাস: মূল পরিকল্পনায় শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব থাকলেও, বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে সংশোধিত বিলে তা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
১৫% আমদানির বিশেষ নিয়ম: যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশেরও কম অংশ আমদানি করে, তাদের এই শুল্কের আওতা থেকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো বড় বাঁচা বেঁচে যাবে; কারণ তারা ইতোমধ্যে মস্কোর ওপর জ্বালানি নির্ভরতা ব্যাপক হারে কমিয়ে এনেছে।
নতুন এই বিলে শুধু শুল্ক আরোপই নয়, বরং রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে অচল করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে:
🎯 মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মূল টার্গেটসমূহ:
১. প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাত: রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও অর্থায়নের উৎস বন্ধ করা।
২. আর্থিক খাত: আন্তর্জাতিক লেনদেনে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা।
৩. শ্যাডো ফ্লিট (Shadow Fleet): আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়ার ব্যবহৃত পুরনো ও নামহীন তেলের জাহাজ বা 'ছায়া বহর'-এর ওপর কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা।
বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানান, হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন সিনেটরদের দীর্ঘ এক বছরের জটিল আলোচনার পর এই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং রণক্ষেত্রে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি এবং বেলজিয়াম। তবে ‘১৫ শতাংশের কম আমদানির’ নিয়মের কারণে চীন ছাড়া বাকি ইউরোপীয় ও এশীয় দেশগুলো এই শুল্কের হাত থেকে রেহাই পাবে।
অন্যদিকে, রুশ অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজান। বিলটি পাস হলে চীন ও ভারতের ওপর বড় ধরণের অর্থনৈতিক ধাক্কা আসতে পারে। নতুন এই বিল পাস হলে কোন দেশের ওপর ঠিক কত শতাংশ শুল্ক বসবে, সেই চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR)।
রুশ জ্বালানি কেনার কারণে চীন ও ভারতকে ওয়াশিংটন এর আগেও একাধিকবার কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছিল। গত বছর ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে চলতি বছরের ১৭ জুন মার্কিন ট্রেজারির দেওয়া একটি বিশেষ সাময়িক ছাড়ের (Waiver) মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে বর্তমানে নয়াদিল্লির রুশ তেল কেনার বিষয়টি এমনিতেই একটি আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতার মধ্যে পড়েছে। নতুন বিলটি পাস হলে ভারতের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়বে।
সম্প্রতি ৭১ বছর বয়সে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুর পর এই বিলটি পাসের ক্ষেত্রে মার্কিন রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব আবেগ ও নতুন গতিবেগ তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক—উভয় দলের সিনেটররাই গ্রাহামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিলটি দ্রুত পাস করতে একমত হয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতি: মৃত্যুর আগে ইউক্রেন সফরকালে গ্রাহাম নিজেই জানিয়েছিলেন যে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে তাঁর সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্পও এক বিবৃতিতে বিলটির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “এটি লিন্ডসের স্বপ্ন ছিল এবং এটি পাস হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের এই বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য রাশিয়ার সাথে আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে একটি বাড়তি ও শক্তিশালী কূটনৈতিক সুবিধা (Diplomatic Leverage) দেবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |